পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৫

'Proshno' by Abul Hassan

প্রশ্ন 

---আবুল হাসান

চোখ ভরে যে দেখতে চাও
রঞ্জন রশ্মিটা চেনো তো?
বুক ভরে যে শ্বাস নিতে চাও
জানো তো অক্সিজেনের পরিমাণটা কত?
এত যে কাছে আসতে চাও
কতটুকু সংযম আছে তোমার?
এত যে ভালোবাসতে চাও
তার কতটুকু উত্তাপ সইতে পারবে তুমি?

'Akankha' by Abul Hassan

আকাঙ্খা 

----আবুল হাসান

 
তুমি কি আমার আকাশ হবে?
মেঘ হয়ে যাকে সাজাব
আমার মনের মত করে ।
 
তুমি কি আমার নদী হবে?
যার নিবিড় আলিঙ্গনে ধন্য হয়ে
তরী বেশে ভেসে যাব কোন অজানা গন্তব্যের পথে ।
 
তুমি কি আমার জোছনা হবে?
যার মায়াজালে বিভোর হয়ে
নিজেকে সঁপে দেব সকল বাস্তবতা ভুলে ।
 
তুমি কি আমার কবর হবে?
যেখানে শান্তির শীতল বাতাসে
বয়ে যাবে আমার চিরনিদ্রার অফুরন্ত প্রহর ।

'Aparup bagan' by Abul Hassan

অপরূপ বাগান 

----আবুল হাসান

চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার : আমি রেখে যাবো
আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল :
নদীর প্রবাহ পলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার- অনড় শামুক ! 

তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমস্ত কি সত্যিই ফুরোবে ?
মুখের ভিতরে এই মলিন দাঁতের পংক্তি- তা হলে এ চোখ 
মাথার খুলির নীচে নরম নির্জন এক অবিনাশী ফুল :
আমার আঙ্গুলগুলি, আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি, অভিলাষগুলি ? 

জানি কিছু চিরকাল ভাস্বর উজ্জ্বল থাকে, চির অমলিন ! 
তুমি চলে গেলে তবু থাকবে আমার তুমি, চিরায়ত তুমি ! 

অনুপস্থিতি হবে আমার একলা ঘর, আমার বসতি ! 

ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ; 
উঠানে জন্মাবো কিছু হাহাকার, অনিদ্রার গান- 

আর লোকে দেখে ভাববে- বিরহবাগান ঐ উঠানে তো বেশ মানিয়েছে !

'Tomar chibuk chubo, kalima chubo na' by Abul Hassan


তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না

----আবুল হাসান

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো
কালিমা রাখবো না! 

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন

তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো
কালিমা রাখবো না! 

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাবো

তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা–
আমি ক্ষত মুছে ফেলবো আকাশে তাকাবো
আমি আঁধার রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভীর দুধের সাদা
হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেত
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না– তোমার চিবুকে
তারা নিশ্চয়ই আছেন! 

তোমার চিবুকে সেই গাভীর দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি 
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাবো আমি তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না!

'Bodle jao, kichuta bodlao' by Abul Hassan




বদলে যাও, কিছুটা বদলাও 

----আবুল হাসান


কিছুটা বদলাতে হবে বাঁশী 
কিছুটা বদলাতে হবে সুর 
সাতটি ছিদ্রের সূর্য; সময়ের গাঢ় অন্তঃপুর 
কিছুটা বদলাতে হবে

মাটির কনুই , ভাঁজ রক্তমাখা দুঃখের সমাজ কিছুটা বদলাতে হবে…

বদলে দাও, তুমি বদলাও
নইলে এক্ষুনি 
ঢুকে পড়বে পাঁচজন বদমাশ খুনী , 
যখন যেখানে পাবে 
মেরে রেখে যাবে, 
তোমার সংসার, বাঁশী, আঘাটার নাও । 
বদলে যাও, বদলে যাও, কিছুটা বদলাও !

'Aparichiti' by Abul Hassan

অপরিচিতি 

আবুল হাসান


 
যেখানেই যাই আমি সেখানেই রাত! 
স্টেডিয়ামে খোলা আকাশের নিচে রেস্তোরাঁয়
অসীমা যেখানে তার অত নীল চোখের ভিতর
ধরেছে নিটোল দিন নিটোল দুপুর
সেখানে গেলেও তবু আমার কেবলই রাত 
আমার কেবলই শুধু রাত হয়ে যায়!

'Maa-go, ora bole' by Abu-Jafar Ubaidullah

মাগো, ওরা বলে 

----আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ



‘কুমড়ো ফুলে ফুলে 
নুয়ে পড়েছে লতাটা,  
সজনে ডাঁটায়  
ভরে গেছে গাছটা,  
আর, আমি ডালের বড়ি  
শুকিয়ে রেখেছি—  
খোকা তুই কবে আসবি!  
কবে ছুটি?’

চিঠিটা তার পকেটে ছিল,
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।

‘মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে 
তোমার কোলে শুয়ে 
গল্প শুনতে দেবে না। 
বলো, মা, তাই কি হয়? 
তাইতো আমার দেরী হচ্ছে। 
তোমার জন্য কথার ঝুড়ি নিয়ে 
তবেই না বাড়ী ফিরবো। 
লক্ষ্মী মা রাগ ক’রো না, 
মাত্রতো আর কটা দিন।’

‘পাগল ছেলে’ ,
মা পড়ে আর হাসে, 
‘তোর ওপরে রাগ করতে পারি!’

নারকেলের চিঁড়ে কোটে,

উড়কি ধানের মুড়কি ভাজে 
এটা সেটা আরো কত কি! 
তার খোকা যে বাড়ী ফিরবে! 
ক্লান্ত খোকা!

কুমড়ো ফুল
শুকিয়ে গেছে, 
ঝ’রে প’ড়েছে ডাঁটা; 
পুঁইলতাটা নেতানো,— 
‘খোকা এলি?’

ঝাপসা চোখে মা তাকায়
উঠোনে, উঠোনে 
যেখানে খোকার শব 
শকুনিরা ব্যবচ্ছেদ করে।

এখন,
মা’র চোখে চৈত্রের রোদ 
পুড়িয়ে দেয় শকুনিদের। 
তারপর, 
দাওয়ায় ব’সে 
মা আবার ধান ভানে, 
বিন্নি ধানের খই ভাজে, 
খোকা তার 
কখন আসে! কখন আসে!

এখন,
মা’র চোখে শিশির ভোর, 
স্নেহের রোদে 
ভিটে ভরেছে।